[নিজস্ব প্রতিবেদক, উজ্জীবিত ডট কম] ১৯ মার্চ, ২০২৬
অশিক্ষা আর দারিদ্র্যের কারণে যে এলাকায় একসময় ডায়রিয়া আর পানিবাহিত রোগ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, আজ সেখানে প্রতিটি ঘরে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এই অভাবনীয় পরিবর্তনের কারিগর কোনো প্রভাবশালী নেতা বা বড় এনজিও নয়, বরং একজন সাধারণ রিকশাচালক। নিজের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির টাকা বাঁচিয়ে তিনি একটি পুরো গ্রামের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলে দিয়েছেন।
পরিবর্তনের সূচনা
বছর পাঁচেক আগে এক ভয়াবহ বর্ষায় এই রিকশাচালকের এলাকায় স্যানিটেশন সংকটের কারণে মহামারি আকারে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অভাবের কারণে গ্রামের মানুষ খোলা জায়গা বা কাঁচা ল্যাট্রিন ব্যবহার করত। সেই সময় নিজের এক স্বজনের মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি শপথ করেন, তার এলাকায় আর কাউকে এভাবে মরতে দেবেন না।

ক্ষুদ্র সঞ্চয় থেকে বড় বিপ্লব
প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো, তা থেকে সামান্য কিছু অংশ তিনি আলাদা করে রাখতে শুরু করেন।
- প্রথম পদক্ষেপ: নিজের জমানো টাকায় তিনি প্রথমে পাশের দুটি দরিদ্র পরিবারের জন্য আধুনিক স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করে দেন।
- কমিউনিটি মোবিলাইজেশন: তার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়। তিনি একটি ছোট ‘স্যানিটেশন ফান্ড’ গঠন করেন যেখানে গ্রামের মানুষ মাসে সামান্য কিছু টাকা জমা দিতে শুরু করে।
- সফলতা: গত চার বছরে এই রিকশাচালকের তত্ত্বাবধানে এবং গ্রামের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১০০টিরও বেশি উন্নত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে ‘ওপেন ডেফিকেশন ফ্রি’ বা উন্মুক্ত মলত্যাগ মুক্ত।
সচেতনতা ও স্বীকৃতি
তিনি কেবল ল্যাট্রিন বানিয়েই ক্ষান্ত হননি, প্রতিদিন রিকশা চালানোর ফাঁকে ফাঁকে যাত্রীদের সাথে পরিচ্ছন্নতা ও হাত ধোয়ার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। ২০২৬ সালের ‘জাতীয় স্যানিটেশন মাস’ উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে। তার এই মডেলটি এখন আশেপাশের গ্রামগুলোতেও প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উজ্জীবিত বার্তা
এই রিকশাচালক আমাদের শিখিয়েছেন যে, সমাজসেবার জন্য পকেটে অনেক টাকা থাকার চেয়ে হৃদয়ে অনেক বড় সাহস থাকা জরুরি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই যে একটি বিশাল সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে পারে, এটি তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
তথ্যসূত্র ও সত্যতা যাচাই:
এই সংবাদটি দক্ষিণ এশিয়ায় (বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে) ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা স্যানিটেশন বিপ্লব এবং ইউনিসেফের ‘কমিউনিটি লেড টোটাল স্যানিটেশন’ (CLTS) মডেলে সাধারণ মানুষের অবদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কগুলো দেখতে পারেন:
- UNICEF Bangladesh: বাংলাদেশে স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় কমিউনিটির ভূমিকা।
- WaterAid: তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উদ্যোগে স্যানিটেশন পরিবর্তনের কেস স্টাডি।
- Swachh Bharat Mission (Grameen): ভারতের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রাম পরিচ্ছন্ন করার বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
- World Bank: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় সামাজিক উদ্যোক্তাদের প্রভাব।