জমানো পেনশনের টাকায় গ্রামে লাইব্রেরি গড়ে তুললেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক: জ্ঞানের আলোয় আলোকিত একটি গ্রাম

admin

September 29, 2020

[নিজস্ব প্রতিবেদক, উজ্জীবিত ডট কম] ১৯ মার্চ ২০২৬

চাকরিজীবন শেষে মানুষ যখন বিশ্রামের কথা ভাবেন, তখন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ৬২ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। নিজের সারা জীবনের তিল তিল করে জমানো পেনশনের পুরো টাকা ব্যয় করে নিজ গ্রামে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক লাইব্রেরি। এই মহৎ উদ্যোগের ফলে গ্রামের পিছিয়ে পড়া কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ এখন সহজেই বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন

উপকূলীয় এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষকের ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রচণ্ড শখ ছিল। কিন্তু গ্রামে কোনো লাইব্রেরি না থাকায় তাকে মাইলের পর মাইল হেঁটে শহরে যেতে হতো। তখনই তিনি মনে মনে সংকল্প করেছিলেন, একদিন নিজের গ্রামেই পাঠাগার গড়ে তুলবেন। ২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার পর সরকারিভাবে পাওয়া গ্র্যাচুইটি ও পেনশনের টাকা হাতে আসতেই তিনি সেই স্বপ্ন পূরণে নেমে পড়েন।

লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য

গ্রামের রাস্তার পাশে নিজের ছোট একখণ্ড জমিতে দোতলা এই লাইব্রেরি ভবনটি তিনি নির্মাণ করেছেন।

  • সংগ্রহ: এখানে একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সাহিত্য, শিশুদের জন্য রঙিন গল্পের বই এবং চাকরির প্রস্তুতির জন্য বিশেষ বিভাগ রয়েছে।
  • ডিজিটাল কর্নার: পাঠাগারটিতে বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য ৩টি কম্পিউটার ও হাই-স্পিড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে।
  • সবার জন্য উন্মুক্ত: কোনো মাসিক ফি ছাড়াই গ্রামের যেকোনো মানুষ এখান থেকে বই সংগ্রহ করতে পারেন।

পরিবর্তনের হাওয়া

লাইব্রেরিটি চালু হওয়ার পর থেকে গ্রামের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্মার্টফোনে আসক্তি কমে বই পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিদিন বিকেলে এখানে বসে পাঠচক্র এবং ছোটদের জন্য গল্প বলার আসর। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং গ্রামের তরুণরা এখন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এই পাঠাগার পরিচালনায় শিক্ষককে সহায়তা করছেন।

উজ্জীবিত বার্তা

এই শিক্ষক প্রমাণ করেছেন যে, সমাজকে বদলে দেওয়ার জন্য কোনো দাতা সংস্থা বা সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় বসে থাকার প্রয়োজন নেই। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ত্যাগ ও শিক্ষার প্রতি অনুরাগ একটি পুরো প্রজন্মের চিন্তাধারা পাল্টে দিতে পারে।


তথ্যসূত্র ও সত্যতা যাচাই:

এই সংবাদটি ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা পাঠাগারের (যেমন: ভারতের ‘লাইব্রেরি ম্যান’ এন এস মাধবন বা বাংলাদেশের পলান সরকারের আন্দোলন) বাস্তবধর্মী অনুপ্রেরণা এবং সাম্প্রতিক সফল উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিস্তারিত জানতে নিচের নির্ভরযোগ্য লিঙ্কগুলো দেখতে পারেন:

Leave a Comment